অস্তিত্বের আদিম গান
ঝলমলে রোদ, নীলাকাশ, সবুজ ঘাসের গালিচা, আমি দৌড়ে বেড়াই পেখমের মত। কোন অস্তিত্ব নেই এই আমির। এক আত্মা এক শরীর এক শ্বাস। রোদের ঝর্ণা নামছে গা বেয়ে, সাথে ভেসে আসছে মাটির সোঁদা গন্ধ। লেগে আছে নোনা মাটির রেণু।
মনে আনন্দের রেশ। শুধু আনন্দ নয়, দুঃখ আর আনন্দের এ এক অদ্ভুত মিশেল। দপদপ করে উঠছে বুকের ভিতর আমার। যেন কোনো আদিম জীবনের গান ভেসে আসছে। জীবন মানে মুহূর্তেরা যেখানে সচল। এই চলমানতার মধ্যে দিয়ে হারিয়ে যেতে যেতে ভেসে উঠি কোনো এক অচেনা উপকূলে। আঙুলের ফাঁকে গলে যায় বালির শরীর, উষ্ণতায় ভরে ওঠে শরীরের প্রতিটা রোমকূপ। চিকচিক প্রতিচ্ছবিতে ও কার মুখ। বিশ্বের সময়ঘড়ি বুঝিয়ে দ্যায় সন্ধের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। মোমের রাঙা আলোয় জোনাকির হলুদ রূপে ঝলসে ওঠে দুই চোখ আমার। আদরের আলতো পরত বুলিয়ে দ্যায় রাতের মায়া।
নগ্নতার এ এক চরম রূপ। শরীরে মনে আত্মায় জড়াজড়ি করে ঘুমিয়ে থাকে সে এক অচেনা মানুষ। চোখে তার নীলচে দিগন্তরেখার ধূসর ছায়া, বাহুতে তার রহস্যময়তা। হাতের রেখা বিলীন হয়ে যায় রাতের আকাশগঙ্গার শরীরে। মুহূর্তে বিস্ফোরণ ঘটে মুহূর্তের, চলকে ওঠে সময়ের অনামা ঘড়ি, আমি হারিয়ে যেতে থাকি দূরে, ক্রমশ আরো দূরে…….।

ভেসে উঠি কচুরিপানার মত। সবুজ শ্যাওলায় ঢেকে গোটা শরীর, জলের নোনা গন্ধে জড়িয়ে। চোখের কালো মণি মিশে যায় মাছের আঁশের অস্বচ্ছতায়। কেঁপে ওঠে শরীর আমার, ক্ষণিকের বিদ্যুৎ চালনায় আলো জন্ম ন্যায় গোটা তনুমন জুড়ে, সেই তাপে শুকিয়ে যায় গুঁড়ো মাটির দল, পিঁপড়েরা ভিড় করে ওঠে শুকনো এই ঘাস শরীরে, বাসা বাঁধে তারা। প্রতিটা কামড়ে ক্ষত বিক্ষত হতে থাকে কম্পমান মুহূর্তেরা। আবক্ষ ঢেকে যায় পিঁপড়ের সাদা ডিমের খোলায়।
জন্ম হয় নতুন প্রানের। সংগীত ভেসে আসে আবহমান কালের। সেই সুর লহরীতে দুলে ওঠে বিশ্বভুবন এ প্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত। গালের লালিমায় ধরা পড়ে লজ্জার লালচে আভা। সে আজ সম্পূর্ণ। সে আজ পরিপূর্ণ। সে আজ ধরণী স্বয়ং।




Post Comment